পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জাল দলিলের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ একর জমি নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় ভূমি মালিকরা। একই সঙ্গে তৎকালীন ও বর্তমান জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার দাবি অনুযায়ী, তেঁতুলিয়ায় বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান করতোয়া সোলার ও পদ্মা সোলার নামে দুটি প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিবন্ধিত হয়। দুটি সোলার স্টেশন স্থাপনের উদ্দেশ্যে ২০২১ সাল থেকে কৃষিজমি অকৃষি হিসেবে দেখিয়ে কিছু জমি কেনা শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আশপাশের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ৬৯টি দলিল জাল করে প্রায় ১৫০ একর জমি নামজারি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বেক্সিমকো গ্রুপের নামে তেঁতুলিয়ায় আরও প্রায় ৩১১টি দলিলের রেকর্ড সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে রয়েছে। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা ৬৯টি দলিলের কোনো রেকর্ড সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তাহলে এসব দলিলের ভিত্তিতে কীভাবে প্রায় ১৫০ একর জমি নামজারি করা হলো—এ প্রশ্নেরও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১১টি রেকর্ডভুক্ত দলিলে প্রায় ২০০ একর জমির তথ্য রয়েছে। এসব দলিলের মধ্যেও কয়েকটি দলিল নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, ভুয়া মালিক সাজিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি কেনাবেচা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের কয়েকজনের ভাষ্য, তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে তারা দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাননি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তারা অভিযোগ সামনে আনতে শুরু করেছেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তেঁতুলিয়া ভূমি অফিসের মাধ্যমে ৬৯টি দলিলের ভিত্তিতে নামজারি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি প্রক্রিয়ায় তৎকালীন ও বর্তমান প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতা থাকতে পারে। অভিযোগে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী, বর্তমান জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমাম রাজী টুটুল, তেঁতুলিয়ার ইউএনও ফজলে রাব্বী এবং সদর এসিল্যান্ড মোহন মিনজির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো হয়নি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”
অন্য যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভূমি মালিকদের দাবি, কথিত জাল দলিল, নামজারি প্রক্রিয়া এবং সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেকর্ড—সবকিছু যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে ৬৯টি দলিলের বৈধতা, নামজারির ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো গ্রুপ এবং অভিযোগে উল্লিখিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
| ফজর | ৪:০০ - ৪:১৫ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১:১৫ - ১:৩০ মিনিট। দুপুর |
| আছর | ৫:১৫ - ৫:৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬:৫০ - ৭:০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৮:৩০ - ৮:৪৫ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১:১৫ - ১:৩০ মিনিট দুপুর |

