অবৈধ ‘আড়াই তলা’ স্লিপার কোচ ও বেপরোয়া ওভারটেকিং—৯ প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
আর কত প্রাণ ঝরলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে? আর কত পরিবার প্রিয়জন হারিয়ে নিঃস্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? দেশের সড়ক যেন দিন দিন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। সর্বশেষ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সারাদেশে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি বাসের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে ভিডিওটি সড়কে অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী কিছু তথাকথিত ‘আড়াই তলা’ স্লিপার কোচ নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এসব যানবাহনের নকশা, ভারসাম্য এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন জাতি জানতে চায়—
▶ কীভাবে বিতর্কিত নকশার স্লিপার কোচ রাস্তায় চলাচলের অনুমতি পেল?
▶ যানবাহনের ফিটনেস ও রোড পারমিট প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে?
▶ অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে কার্যকর নজরদারি কোথায়?
▶ প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন হলেও বাস্তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কেন দেখা যায় না?
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়ম ভঙ্গকারী চালক, অনিরাপদ যানবাহনের মালিক এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে, যার দায় প্রমাণিত হবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সব স্লিপার কোচের নকশা, ফিটনেস ও অনুমোদন পুনরায় যাচাই করারও দাবি উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
সড়ক কোনো মৃত্যুফাঁদ নয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবহন মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। আর একটি প্রাণও যেন অবহেলা ও অনিয়মের কারণে না ঝরে—এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
| ফজর | ৪:০০ - ৪:১৫ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১:১৫ - ১:৩০ মিনিট। দুপুর |
| আছর | ৫:১৫ - ৫:৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬:৫০ - ৭:০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৮:৩০ - ৮:৪৫ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১:১৫ - ১:৩০ মিনিট দুপুর |

