1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

সার্টিফিকেট জালিয়াতিতে দফাদারের যত কাণ্ড, তদন্তে ইউএনও।

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ নুর জামাল হক
  • আপডেট টাইমঃ 05-05-2026 ইং
  • 14839 বার পঠিত
ad728

সার্টিফিকেট জালিয়াতিতে দফাদারের যত কাণ্ড, তদন্তে ইউএনও। 


এতো বছর বহাল তবিয়তে চাকরি চালিয়ে আসলেও এবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে মাঠে নামছে উপজেলা প্রশাসন। এসব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের দফাদার মো. আবুল হোসেন মৃধার নামে।


জাল সার্টিফিকেটে বয়স বাড়ানো ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে দিব্যি চাকরি করে আসছিলেন একজন দফাদার। তিনি এনআইডি সংশোধন করে চাকরির বয়স বাড়িয়েছেন। আর এই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে গিয়ে অভিনব জালিয়াতির জাল বুনেছেন এই কর্মচারী। এতো বছর বহাল তবিয়তে চাকরি চালিয়ে আসলেও এবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে মাঠে নামছে উপজেলা প্রশাসন। এসব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের দফাদার মো. আবুল হোসেন মৃধার নামে।


অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, অভিনব জালিয়াতি করার ফন্দি করেন দফাদার আবুল। নিজের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করেন। ভোটার আইডিকার্ড সংশোধনের ডিজিটাল পদ্ধতিকে তিনি দেখিয়েছেন বড়ো আঙুল। সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করলে ধরা খেতে পারেন- এমন শঙ্কা এড়াতে প্রথমে স্থানীয় স্কুল থেকে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের স্বাক্ষর জাল করে সনদ বের করেন নিজেই। তবে নিজের অগোচরে সেখানেই অনিয়মের চিহ্ন রেখে যান তিনি।


সনদ জালিয়াতি ঘটনায় স্কুলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আসলেই কি তিনি এই জালিয়াতি করেছেন- এমন প্রশ্নে প্রেক্ষিতে খোঁজ নেয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে। তবে স্কুলের রেজিস্ট্রি খাতা খুঁজে আবুল হোসেন নামে কোনো ছাত্রের খোঁজ মেলেনি।


অভিযোগ রয়েছে আবুল হোসেন দফাদার উপজেলা অফিসে যে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন, সেখানে সার্টিফিকেটে জন্ম খ্রিষ্টাব্দ দেখানো হয়েছে ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১ ডিসেম্বর। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি ৫ম শ্রেণির সার্টিফিকেট জমা দেন এবং সেই হিসেবে তার জন্ম সন ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ ১ ডিসেম্বর। অভিযোগ রয়েছে আবুল হোসেন কয়েকবার জন্ম খ্রিষ্টাব্দ পরিবর্তন করেছে।


এই বিষয়ে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম না প্রকাশের অনুরোধে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, অভিযুক্ত আবুল হোসেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন না। আমাদের স্কুলের কোনো রেকর্ডে তার নাম নেই। এটা একটা অন্যায় কাজ, রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল।


এই বিষয়ে বাউফল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, সংশ্লিষ্ট এমপির সুপারিশ করা একটা চিঠি পেয়েছি এই বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য। তদন্তের জন্য একজন অফিসারদের দায়িত্ব দেয়া হবে। যেহেতু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হবে। কোন-কোন কাগজ আমলে নিয়ে বয়স সংশোধন করা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হবে।


তার অফিস থেকে সার্ভিস বই গায়েব করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, এই বিষয়ে ও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সব বেড়িয়ে আসবে। আপনি নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি আছেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে জাল সনদ নিয়ে বয়স বাড়ানো হয়েছে এই বিষয়ে তিনি বলেন স্কুলে চিঠি দেয়া হবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই স্কুলের ছাত্র ছিলেন কিনা এটা জানা যাবে।


১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক সাবেক ছাত্রের কাছে জানতে চাইলে নাম না প্রকাশের অনুরোধে বলেন, আবুল দফাদার তাদের সাথে এই সময়ে পড়াশোনা করেননি। তবে আবুল হোসেন তাদের পরিচিত। একজন সাবেক ছাত্র বলেন, আমি যখন নওমালা হাইস্কুলে পড়াশোনা করি তখন আবুল পটুয়াখালীতে হোটেলে কাজ করত। আবুল আমার পরিচিত আমরা একই এলাকার। আমাদের বাড়িও পাশাপাশি। যেহেতু বিষয়টি জটিল তাই এবিষয়ে আর কথা বলতে চাইনা।


বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সত্য বেড়িয়ে আসবে। তদন্ত শেষ হোক তারপরে বিস্তারিত জানাবো।


অভিযুক্ত আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিক বার কল দিলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728