1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন হাসিনাপুত্র জয়

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ
  • আপডেট টাইমঃ 04-02-2026 ইং
  • 17366 বার পঠিত
ad728

জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন হাসিনাপুত্র জয়: কলকাতা অনুষ্ঠানে অনুশোচনা ও হুঁশিয়ারি


মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ || স্টাফ রিপোর্টার


বাংলাদেশ – ভারতের কলকাতায় আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করেছেন। গত সোমবার ‘খোলা হাওয়া’ নামক বিজেপিঘনিষ্ঠ মঞ্চে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী ঘটনায় নিরপরাধ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এতদিন এই ঘটনা নিয়ে সরাসরি অনুশোচনা প্রকাশ না করলেও, এবার তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল ন্যায্য, এবং সরকারের কিছু ব্যর্থতা এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।


জয়ের বক্তৃতা, যা প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে, অনুশোচনা এবং সতর্কতার মিশেলে ভরপুর ছিল। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের মূলে ছিল ন্যায়সঙ্গত অভিযোগ। সরকার আগেই কোটা বাতিল করেছিল, কিন্তু আদালতের নির্দেশে তা ফিরে আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই বিষয়টিকে তিনি সরকারের একটি বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে ছাত্রদের মৃত্যুর দায় নেওয়ার পাশাপাশি তিনি নেপথ্যের ষড়যন্ত্রের কথাও তুলেছেন। জয়ের দাবি, আন্দোলনের আড়ালে কট্টরপন্থি এবং জঙ্গিরা হিংসা ছড়িয়েছে—থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং গোলমালের সূত্রপাত তাদেরই কাজ। শেখ হাসিনার একটি অডিও রেকর্ডকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার বা পুলিশ আগ বাড়িয়ে হিংসা শুরু করেনি, বরং বিরোধী শক্তিরা পরিস্থিতিকে হিংসাত্মক করে তুলেছে।


অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জয়ের কড়া অবস্থান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে তিনি ‘একতরফা প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে এবং অন্যান্য প্রগতিশীল দলগুলোকে কোণঠাসা করে আয়োজিত এই নির্বাচনকে তিনি বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে এক দ্বিমুখী লড়াইয়ের সাথে তুলনা করেছেন। জাতীয় পার্টির মতো দলকেও প্রচারের সুযোগ না দেওয়ায় এই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। জয় সতর্ক করে বলেছেন, এই নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং এতে জামায়াতের নেপথ্য প্রভাব বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অশুভ ছায়া ফেলবে।


এছাড়া, ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে জয়ের আশঙ্কা ছিল স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন যে, বিএনপি আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে উঠেছে, এবং ক্ষমতায় এলে জামায়াত ও পাকিস্তানকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হবে। এতে ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেছেন, জামায়াতকে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া থেকে আটকানোর এটাই শেষ সুযোগ। বক্তৃতায় তিনি ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশের খুনের ঘটনাকেও তুলে ধরেছেন, যার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না।


এই অনুষ্ঠান এবং জয়ের বক্তৃতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। একদিকে অনুশোচনা, অন্যদিকে সতর্কতা—এই মিশেলে তার কথাগুলো আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করেন, এটি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সাহায্য করবে। তবে জয়ের এই স্বীকারোক্তি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবারের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728