| বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জে গৃহবধূ মুন্নীর মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

রিপোর্টারের নামঃ
  • আপডেট টাইমঃ 26-08-2026 ইং
  • 56 বার পঠিত
ad728

মোহনগঞ্জে গৃহবধূ মুন্নীর মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন


নেত্রকোনা প্রতিনিধি


নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গৃহবধূ মুন্নী আক্তারের (২২) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার অভিযোগ তুলে স্বামীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামে মোহনগঞ্জ-সমাজ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন বলে স্থানীয় ও একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


নিহত মুন্নী আক্তার উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে একই উপজেলার কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাতে কয়ড়াপাড়া এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে মুন্নীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তাঁর স্বামী সোহাগ মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।


নিহতের বাবা ইদ্রিছ মিয়ার অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে মুন্নীকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইদ্রিছ মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার নথিতেও আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় মামলার তথ্য পাওয়া যায়। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।


মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, মুন্নীর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


মানববন্ধনে নিহতের বাবা ইদ্রিছ মিয়া, মা নুরজাহান আক্তার, ভাই মো. আনিছ মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এ সময় ‘মুন্নী আক্তার হত্যার বিচার চাই’ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


তবে মুন্নী আক্তারের মৃত্যু হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে—এটি এখনো তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।


এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত না রেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728