বঙ্গাব্দ

ভিসা প্রতারণার অভিনব কৌশল, প্রতারক জামিনুরকে আদালতে প্রেরণ

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ শরিফ বিল্লাহ
  • আপডেট টাইমঃ 12-08-2026 ইং
  • 3612 বার পঠিত
ad728

মোঃ শরিফ বিল্লাহ 

স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর)


ভিসা প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশগামী মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব কৌশলের তথ্য দিয়েছেন ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। এ ঘটনায় জামিনুর নামে এক ব্যক্তিকে সি.আর. ৩৩৪/২০২৫ মামলায় আদালতের পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


ডোমার থানার ওসি জানান, ভিসা প্রতারক চক্রগুলো প্রথমে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস বা যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন বা ‘বুস্ট পোস্ট’ দেওয়া হয়। এসব পোস্টে যোগাযোগের জন্য ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া থাকে।


প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমেই আবেদনকারীর পাসপোর্টের পিডিএফ কপি চাওয়া হয়। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার পাসপোর্টের পাশাপাশি আকামার পিডিএফ কপিও চাওয়া হতে পারে। এরপর কাঙ্ক্ষিত দেশে পাঠানোর কথা বলে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।


ওসি’র ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে কোনো একটি দেশের দূতাবাসে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর আবেদনকারীর মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হলে ভিসা বাবদ মোট টাকার একটি বড় অংশ অগ্রিম হিসেবে দাবি করা হয়।


এরপর প্রতারকরা কাঙ্ক্ষিত দেশের ভুয়া ভিসার পিডিএফ কপি আবেদনকারীর কাছে পাঠিয়ে অনলাইনে ভিসা যাচাই করার কথা বলে। ভুয়া ওয়েবসাইট বা অ্যাপসে ভিসা দেখা গেলে আবেদনকারী সেটিকে আসল মনে করে প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করেন এবং বাকি টাকা পরিশোধ করেন।


শুধু ভিসা নয়, প্রতারণার শেষ ধাপ হিসেবে কম খরচে বিমান টিকিট দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়। প্রতারকরা নির্দিষ্ট একটি ফ্লাইটের কথা জানিয়ে টিকিটের টাকা নেয়। বিমানবন্দরে গিয়ে ওই ফ্লাইটের অস্তিত্ব দেখা গেলেও পরবর্তীতে যাত্রীর হাতে দেওয়া টিকিটটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। শেষ পর্যন্ত ইমিগ্রেশনে গিয়ে আটকে পড়ার পর ভুক্তভোগীরা পুরো বিষয়টি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন।


ডোমার থানার ওসি বলেন, বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের এসব প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আকর্ষণীয় অফার বা অল্প সময়ে ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস না করে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।


এদিকে উল্লেখিত জামিনুরকে সি.আর. ৩৩৪/২০২৫ মামলার ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডোমার থানা পুলিশ।


বিদেশে যেতে আগ্রহী ও বর্তমানে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের প্রতি পুলিশের আহ্বান - ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা বিমান টিকিটের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়ার আগে তাদের বৈধতা ও কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করুন। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728