বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে ১,০০০ শয্যার মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে চীনকে বাংলাদেশের চিঠি

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ শরিফ বিল্লাহ
  • আপডেট টাইমঃ 07-08-2026 ইং
  • 5205 বার পঠিত

নীলফামারীতে ১,০০০ শয্যার মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে চীনকে বাংলাদেশের চিঠি




মোঃ শরিফ বিল্লাহ 

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি 


নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রস্তাবিত ১ হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানকে উপযুক্ত বলে মত দিয়েছে চীনের কারিগরি প্রতিনিধি দল। তবে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আরেকটি কারিগরি দলের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলটি কবে বাংলাদেশে আসবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-কে চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি জানার অনুরোধ করেছে।


গত ৫ থেকে ১৪ মে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি (সিডকা)-এর একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। সফরের অংশ হিসেবে তারা রংপুর ও নীলফামারীতে প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ, পানি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিদ্যমান থাকায় নির্ধারিত স্থানটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য উপযোগী।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পের ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট ডকুমেন্ট (আইপিডি) প্রস্তুতের আগে আরও একটি বিস্তারিত কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে। ওই সমীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই প্রকল্পের ব্যয়, পরিধি ও বাস্তবায়নের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।


প্রস্তাবিত হাসপাতালটি সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কের পাশে চড়াইখোলা ইউনিয়নে দারওয়ানী টেক্সটাইল মিলস সংলগ্ন প্রায় ২৫ একর জমিতে নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


চীনের অনুদান সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকা এ প্রকল্পটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে একনেকের শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন পেলেও অর্থায়নের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা না মেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন হয়নি।


হাসপাতালটি চালু হলে অনকোলজি, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, শিশু ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা, ২০০ মেশিনসমৃদ্ধ ডায়ালাইসিস কেন্দ্র এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে।


নীলফামারীর সিভিল সার্জন আবদুর রাজ্জাক বলেন, হাসপাতালটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। এতে নীলফামারী ছাড়াও পঞ্চগড়, গাইবান্ধাসহ আশপাশের জেলার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন এবং চিকিৎসার জন্য রংপুর বা ঢাকামুখী রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..