1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

১৪ বছর পরও হয়নি সাগর-রুনি হত্যার বিচার, তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়েছে ১২৪ বার

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ
  • আপডেট টাইমঃ 25-02-2026 ইং
  • 15854 বার পঠিত
ad728

১৪ বছর পরও হয়নি সাগর-রুনি হত্যার বিচার, তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়েছে ১২৪ বার


মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ || স্টাফ রিপোর্টার


বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়সাগর সারোয়ার এবং মেহেরুন রুনির নৃশংস হত্যাকাণ্ড আজও রহস্যে ঘেরা। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির সেই ভোররাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ছুরিকাঘাতে খুন হন এই দম্পতি। সাগর মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের নিউজ এডিটর ছিলেন, রুনি এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার। তাদের পাঁচ বছরের ছেলে মাহির সাক্ষী ছিল সেই ভয়াবহ দৃশ্যের, কিন্তু ১৪ বছর কেটে গেলেও ন্যায়বিচারের আলো দেখা যাচ্ছে না। তদন্তের নামে চলছে একের পর এক বিলম্ব, যা সাংবাদিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।


হত্যার পরপরই মামলা দায়ের হয় রাজধানী থানায়, কিন্তু তদন্তের দায়িত্ব পাল্টাতে থাকে প্রথমে পুলিশ, তারপর ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), তারপর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), এবং ২০১৩ সাল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগ উঠেছে যে রাজনৈতিক চাপে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এবং এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি কিলার স্কোয়াড জড়িত ছিল, যা লিক হওয়া কল রেকর্ডস থেকে উঠে এসেছে। এই দাবিগুলো অবশ্য এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু এগুলো রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।


সর্বশেষ উন্নয়নে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে এ নিয়ে ১২৪ বার বিলম্ব। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হককে শো-কজ নোটিস জারি করে ব্যাখ্যা চেয়েছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১২৩ বার পিছিয়ে যায় প্রতিবেদন, আর ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এ ১২২ বার। এই বিলম্বগুলোর কারণ হিসেবে তদন্তকারী সংস্থা প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা দেখালেও, পরিবার এবং সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো অভিযোগ করছে যে এটি ইচ্ছাকৃত।


আন্তর্জাতিকভাবে, এই মামলা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং প্রেস ফ্রিডমের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জার্মানির ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ), যেখানে সাগর কাজ করেছিলেন, এবং বিবিসি, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) মতো সংস্থা প্রথমদিকে এটি নিয়ে রিপোর্ট করেছে। তবে ২০২৬-এ নতুন কভারেজ কম, যদিও উইকিপিডিয়া এবং কিছু ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিপোর্টে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিযোগগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আল জাজিরা এবং বিবিসির সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে কোনো নতুন আপডেট পাওয়া যায়নি, কিন্তু পুরনো রিপোর্টগুলোতে বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার অমীমাংসিত প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।


দেশীয় মিডিয়ায় এটি এখনও শীর্ষ খবর। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, বিএসএস, টিবিএস নিউজ, বিডি প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ মতো গণমাধ্যমগুলো নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে এক্স (টুইটার)-এ, সাংবাদিকরা এবং অ্যাকটিভিস্টরা ন্যায়ের দাবিতে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন, যদিও সাম্প্রতিক সার্চে নতুন পোস্ট কম পাওয়া গেছে।


পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে রুনির ভাই নওশের আলী রোমান, বারবার দাবি করছেন যে তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে। এই মামলা শুধু একটি হত্যা নয়, বাংলাদেশে প্রেস ফ্রিডমের সংকটের প্রতিফলন। ১ এপ্রিলের পরবর্তী শুনানিতে কী হবে, সেটাই এখন অপেক্ষার বিষয়। যতক্ষণ না সত্য বেরিয়ে আসে, ততক্ষণ এই রহস্য দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলে চলবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728