বঙ্গাব্দ

জকসু নির্বাচন ঘিরে নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ত্রাস সৃষ্টির দাবি

জকসু নির্বাচন ঘিরে নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ত্রাস সৃষ্টির দাবি

জকসু নির্বাচন ঘিরে নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ত্রাস সৃষ্টির দাবি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে ঘিরে এক নারী শিক্ষার্থী ও তার স্বজনকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

তিনি জানান, জকসু নির্বাচনে তার স্বামী রিয়াজুল ইসলাম ভিপি পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার ব্যালট নম্বর ৬।

মাহিমা আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার এক নিকট আত্মীয় (আপু) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। শেষ কথোপকথনে তিনি তাকে গেটের কাছেই থাকার কথা জানান। পরে ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে ওই নারী তাকে খুঁজতে খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দিকে চলে যান।

এ সময় সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি জানতে মাহিমা আক্তার সেখানে গেলে তাকেও দুর্ব্যবহার ও হয়রানির শিকার হতে হয় এবং একপর্যায়ে একটি মব পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়—

“আজকে কিন্তু শিবির জিতবে না, দেখে নিব তোমাদের।”

ঘটনার পর মাহিমা আক্তার প্রশ্ন তুলেছেন—

ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো নারীকে বা সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা হয়রানি করার অধিকার ছাত্রদলকে কে দিয়েছে? ছাত্রদল কি কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ?

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ অতীতের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, নারীবান্ধব ও ভীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিল, সেখানে এ ধরনের ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক।

মাহিমা আক্তার বলেন,

“আজ আমি টার্গেট, কাল আপনি হবেন না—এর নিশ্চয়তা কোথায়?”

তিনি প্রশ্ন রাখেন— বাংলাদেশে কি কখনোই এমন একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে না, যেখানে মতাদর্শের ভিন্নতা থাকবে পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের মধ্যে? যেখানে ক্যাম্পাস শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপদ আশ্রয় এবং মত প্রকাশের অবাধ ক্ষেত্র?

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..