বিশেষ প্রতিনিধি, Team Ovijog Desk।।
১১ জুলাই যোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের ওমরাহ পালনের সুযোগ, মানবিক উদ্যোগে পাশে দাঁড়ালেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ
দুই চোখ হারানো ১১ জুলাই যোদ্ধাকে পরিবারের সদস্যসহ ওমরাহ পালনের ব্যবস্থা; অধ্যাপক ড. খায়ের আহমেদ, জাহাঙ্গীর স্যারসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হলো উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই আন্দোলনে দুই চোখ হারানো ১১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ছয়জন দুই চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধাকে একজন করে পরিবারের সদস্যসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে আরও পাঁচজন দুই চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধাকে তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই মানবিক উদ্যোগের আওতায় পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
এই উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সাবেক চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. খায়ের আহমেদ। তিনি উদ্যোগটি গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওমরাহ পালনের ব্যবস্থা করেন।
উদ্যোগটি বাস্তবায়নে অধ্যাপক ড. খায়ের আহমেদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, ইমরানসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. খায়ের আহমেদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য তাঁর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
এদিকে, আহত জুলাই যোদ্ধাদের ওমরাহ পালনের উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান জাহাঙ্গীর । তাঁর সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওমরাহ যাত্রায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিও বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সহযোগিতা করেছে এবং পুরো কার্যক্রমে আন্তরিকতার সঙ্গে পাশে থেকেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যাঁদের পাশে থাকার প্রত্যাশা ছিল, তাঁদের অনেকেই পরবর্তীতে আহতদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিপরীতে, যাঁদের কাছ থেকে তেমন কোনো প্রত্যাশা ছিল না, তাঁদের অনেকেই মানবিক বিবেচনায় এগিয়ে এসে আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এই উদ্যোগকে শুধু ওমরাহ পালনের সুযোগ হিসেবে নয়, বরং আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মানবিক দায়িত্ববোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওমরাহ পালনে যাওয়া ১১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তাঁদের ওমরাহ কবুল করেন এবং তাঁদের জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও কল্যাণ দান করেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।