বিশেষ প্রতিনিধি, Team Ovijog।।
পীরগঞ্জে ব্যারিস্টার রুকুনুজ্জামানকে গণসংবর্ধনা
মোঃ হাবিবুর রহমান
পীরগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের সদস্য ব্যারিস্টার রুকুনুজ্জামান (রোকন)গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার বিকেলে কালুপীর বাজার কমিটি'র আয়োজন বাজার চত্তরে এই সংবর্ধনা হয়।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামী'র আমীর তহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রকুনুজ্জামান, কালুপীর বাজার কমাটির আহবায়ক আব্দুল সালাম, সাংবাদিক বিষ্ণুপদ রায়, কাপড় ব্যবসায়ী সুশীল মুখার্জী ও রুবেল ইসলাম সহ অনেকে।
উল্লেখ্য কালুপীর বাজারটি মতোয়াল্লিদের পক্ষে মামলা রায় দেওয়ায় দোকানদাররা আপিল করেন উক্ত মামলাটি মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট ডিভিশন চলমান রয়েছে ।, পরে ব্যারিস্টার রুকুনুজ্জামান (রোকন)এর আইনি সহায়তায় দিচ্ছে।
➤➤➤ সৈয়দপুর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামী'র আমীর তহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রকুনুজ্জামান ধানের শীষ মার্কায় ভোট চান উক্ত প্রোগ্রামে জামায়াতে ইসলামী'র আমীর নিজেই উপস্থিত থেকেছেন যা জামায়াতে ইসলামের জন্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ।
আপনার প্রদত্ত সংবাদটির উপর ভিত্তি করে, সৈয়দপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর কর্তৃক ব্যারিস্টারের সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করা এবং সেই অনুষ্ঠানে 'ধানের শীষ' প্রতীকের জন্য ভোট চাওয়ার ঘটনাটি জামায়াতে ইসলামীর দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুতর বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নিচে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ আইন (গঠনতন্ত্র) ও রাজনৈতিক আদর্শের আলোকে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:
জামায়াতে ইসলামীর কোন ধারায় এবং কেন এটি ভুল?
জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি আদর্শভিত্তিক ও কঠোর শৃঙ্খলার রাজনৈতিক দলের প্রতিটি সদস্য, বিশেষ করে দায়িত্বশীল বা নেতাকে, দলের গঠনতন্ত্র, কর্মপদ্ধতি ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়। উক্ত ঘটনায় ইউনিয়ন আমীর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
১. দলীয় গঠনতন্ত্র ও আনুগত্যের লঙ্ঘন:
জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের প্রত্যেক সদস্য বা নেতা (রুকন বা আমীর) দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়েই সংগঠনে যোগ দেন। দলের মূল লক্ষ্য হলো "আল্লাহর সার্বভৌমত্ব" প্রতিষ্ঠা করা এবং দলের নিজস্ব আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে একটি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
ভুল: অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের (এক্ষেত্রে বিএনপি, যার প্রতীক ধানের শীষ) নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেওয়া বা সেই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করা জামায়াতের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ ও লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি দলের প্রতি আনুগত্যের শপথ ভঙ্গের সামিল। কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে অন্য দলের প্রার্থীর সংবর্ধনায় যেতে পারলেও, দলের পদবী ব্যবহার করে (ইউনিয়ন আমীর হিসেবে) সভাপতিত্ব করা এবং সেখানে অন্য দলের প্রতীককে সমর্থন করা সরাসরি গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।
২. সাংগঠনিক শৃঙ্খলার (Organizational Discipline) গুরুতর লঙ্ঘন:
জামায়াত একটি ক্যাডারভিত্তিক ও স্তরবিন্যাস কঠোরভাবে মেনে চলা দল। এখানে যেকোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে নির্বাচনী জোট বা কাউকে সমর্থন দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে আসে।
ভুল: একজন ইউনিয়ন আমীরের কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কোনো এখতিয়ার নেই। কোনো দলকে বা প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অথবা কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ। সেই সিদ্ধান্ত এরপর সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় তৃণমূল পর্যন্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো স্থানীয় নেতা যদি এমন কোনো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, তবে তা দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে অস্বীকার করার শামিল এবং এটি একটি গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত অপরাধ।
৩. স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের বিলুপ্তি ঘটানো:
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য হলো নিজ দলের পরিচিতি, আদর্শ ও প্রতীককে জনগণের সামনে তুলে ধরা।
ভুল: যখন একজন জামায়াত নেতা অন্য দলের নির্বাচনী প্রতীকের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, তখন তিনি কার্যত নিজ দলের পরিচয়কে গৌণ করে অন্য দলের পরিচয়কে মুখ্য করে তোলেন। এটি দলের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা যায় যে, জামায়াতের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই বা তারা অন্য দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করছে। এটি দলের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর।
৪. জোটের রাজনীতির অপব্যবহার:
ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন ও নির্বাচন করেছে। কিন্তু জোটের রাজনীতি মানে এই নয় যে, এক দলের নেতা অন্য দলের প্রতীক নিয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আসনে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয় এবং কর্মীরা তার পক্ষে কাজ করে।
বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কেন: জোটের প্রার্থীকে সমর্থনের অর্থ এই নয় যে, জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো ও পদবী ব্যবহার করে বিএনপির দলীয় প্রতীক "ধানের শীষ"-এর জন্য সরাসরি ভোট চাওয়া হবে। এটি জোটের রাজনীতির শিষ্টাচারকেও লঙ্ঘন করে। জামায়াতের কর্মীরা জোটের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, কিন্তু দলের একজন আমীর অন্য দলের প্রতীক প্রচারের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করতে পারেন না। এটি জামায়াতের জন্য একটি "বিতর্কিত সিদ্ধান্ত" কারণ এটি দলের মৌলিক আদর্শ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মূলে আঘাত করে।
সম্ভাব্য পরিণতি:
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই ধরনের গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য উক্ত ইউনিয়ন আমীরের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী তার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
ব্যাখ্যা তলব: কেন তিনি এই কাজ করেছেন, তার লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া।
পদ থেকে অব্যাহতি: তাকে ইউনিয়ন আমীরের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া।
সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল: অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে দল থেকে বহিষ্কার করা।
সারসংক্ষেপ: সৈয়দপুর ইউনিয়নের জামায়াত আমীরের এই কাজটি দলের আদর্শ, গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্পূর্ণ বিরোধী। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। এটি একটি গুরুতর ভুল এবং দলের অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।